আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার এবং এটি সম্পর্কে কিছু ধারনা

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজকে আমরা আলোচনা করব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা সংক্ষেপে AI (এআই) নামে পরিচিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের চিন্তা ভাবনাকে কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটার বা কম্পিউটার নির্ভর যন্ত্রের মধ্যে রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বর্তমানে কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই শাখায় মানুষের চিন্তা ভাবনাকে কম্পিউটারের মধ্যে দিয়ে অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত পৌঁছানো, জটিল সমস্যার সমাধান, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়।

আপনারাতো এটি সকলেই জানেন যে, কম্পিউটারের নিজস্ব কোন বুদ্ধি নেই। কম্পিউটার নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না। এ যন্ত্রকে যে কাজটি করতে বলা হয় একমাত্র সেটিই করে। কম্পিউটারকে কাজ করতে হলে বাহিরে থেকে প্রোগ্রামিং সেট করতে হয়। কম্পিউটার শুধু নিজের কাছে সংরক্ষিত তথ্য এবং প্রোগ্রামের আলোকে কাজ করতে পারে। কোন সমস্যা দেখা দিলে বা কোন সমস্যার আলোকে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে না। কোন সমস্যা দেখা দিলে কম্পিউটার যাতে নিজে থেকে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেজন্য এর ভেতরে অনেক সমস্যার সমাধান ঢুকিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এটিকেই বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট।

আমরা যদি একটি রোবট এর কথা চিন্তা করি, তবে রোবটের বুদ্ধি হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট। রোবট টিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ফলে মানুষের নির্দেশ অনুযায়ী যে কোন সাধারণ কিংবা মানুষের দুঃসাধ্য যেকোনো কাজ সম্পাদন করে। রোবটকে কি করতে হবে সেটি বাহিরে থেকে প্রোগ্রামিং করে দেয়া হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী রোবটটি তার কাজ সম্পাদন করে। রোবট নিজে থেকে কোন কাজ করতে পারে না। রোবটকে পরিচালনার জন্য বাহিরে থেকে এর ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইনপুট করে দেয়া হয়। তবে চলুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত জেনে নেই।

সাধারণ প্রোগ্রামগুলো জ্ঞান আহরণ করতে পারে না, তবে কিছু মেশিন বা প্রোগ্রাম এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন তারা নিজে থেকে কিছু শিখে নিতে পারে, যেগুলোকে আমরা বলি বুদ্ধিমান প্রোগ্রাম বা বুদ্ধিমান প্রোগ্রামিং মেশিন। উদাহরণস্বরূপ আমরা গুগলের কথাই বলতে পারি। আমরা যখন গুগল এ কিছু লিখে সার্চ করি তখন গুগল আমাদের বয়স, লোকেশন এবং অতীতের সার্চ হিস্টোরি এর ওপর ভিত্তি করে সার্চ রেজাল্ট প্রদর্শন করে।

গুগল এটি কিভাবে করেছে?

কোন ব্যবহারকারী কোন বিষয়ে আগ্রহ বেশি সেটি গুগল আগে থেকেই জানে। গুগল তার অতীতের অ্যাক্টিভিটি গুলো তার ডাটাবেজের সেভ করে রেখেছে। পরবর্তীতে সে যখন কোন কীওয়ার্ড লিখে সার্চ করবে, তখন তার সার্চ রেজাল্টে তার পছন্দমতো রেজাল্ট গুলো চলে আসবে। এক্ষেত্রে সে অহেতুক কোন বিষয় পাবে না। গুগল এটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে করেছে।

আপনাকে এ বিষয়ে আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যাবে। সেটি হল গুগল বা ফেসবুক অ্যাড সম্পর্কে। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে আপনি যে বিষয়ে বেশি ভালোবাসেন বা যে বিষয়ে বেশি আগ্রহী সেসব অ্যাড ই কিন্তু আপনার ইউটিউব ভিডিও কিংবা ফেসবুকে প্রদর্শন করে। ফেসবুক এবং গুগল আপনাদের অ্যাক্টিভিটি গুলো তারা তাদের ডাটাবেসের সেভ করে নেয় পরবর্তীতে আপনাকে আপনার পছন্দের বিজ্ঞাপণ দেখানোর কাজে। যা পরবর্তীতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে আপনার কাছে বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করে। ফলে আপনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কোন অহেতুক বিজ্ঞাপণ পান না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট আপনাকে আপনার পছন্দের বিজ্ঞাপনগুলো এনে দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট তিন ভাগে বিভক্ত।

১. ANI বা Artificial Narrow Intelligence: আর্টিফিশিয়াল ন্যারো ইন্টেলিজেন্ট হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ। যেমন একটি মেশিন শুধু দাবা খেলার জন্য, এক্ষেত্রে মেশিনটি শুধু দাবাই খেলতে পারবে। দাবার পরিবর্তে তাকে যদি লুডু খেলতে দেওয়া হয় সে মেশিনটি এটি পারবে না। যদিও লুডু খেলা দাবার চাইতেও বেশি কঠিন নয়। আর্টিফিশিয়াল ন্যারো ইন্টেলিজেন্ট কে আমরা বলতে পারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথম ধাপ।

২. AGI বা artificial general intelligence: এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিতীয় ধাপ। এটিকে স্ট্রং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা Human level AI বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় একটি কম্পিউটার মানুষের মতো চিন্তা করা, মানুষের মতো প্ল্যান তৈরি করা এবং হঠাৎ কোনো সমস্যা আসলে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে।

৩. ASI বা Artificial Super Intelligent: আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্ট হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৃতীয় ধাপ। যদি কম্পিউটার মানুষের চাইতে ও বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে তখন আমরা তাকে বলব আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্ট।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট কে প্রোগ্রাম করে একটি ডিভাইসের মধ্যে ইনপুট করা হয়। প্রোগ্রামিং ভাষা LISP, C/C+, PROLONG, CLISP, JAVA ইত্যাদি। এসব প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হয়। রোবট হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব প্রয়োগ এর একটি উদাহরণ। এছাড়া বর্তমানে কম্পিউটার এবং ডিজিটাল ডিভাইস গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে কম্পিউটারের চিন্তাভাবনাগুলো মানুষের মতোই হয়ে যাচ্ছে। মানুষ একই সময়ে একাধিক চিন্তা-ভাবনা করতে পারে না, তবে কম্পিউটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ফলে এটি একই সময়ে অনেক কাজ দ্রুত সম্পাদন করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের ফলে যন্ত্রের মধ্যে যদি চিন্তা, জ্ঞান এবং পরিকল্পনা করতে সামর্থ্য হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার

artificial intelligence

বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট এর একটি উদাহরণ পরিলক্ষিত হয় কম্পিউটার বা ভিডিও গেমসের ক্ষেত্রে। এখানে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে এই গেমের ক্যারেক্টারগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রদান করা হয়। যার ফলে গেমসের ক্যারেক্টারগুলো গেম ব্যবহারকারীদের চিন্তাও কার্যক্রমের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করে। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট প্রত্যেকটি ডিভাইসে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান স্মার্টফোন গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা (AI) যুক্ত ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট এর আরও একটি বাস্তব উদাহরণ হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে আমি আরো একটি টিউন করেছি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি তা জানতে এখানে ক্লিক করুন

বন্ধুরা এই ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে সামান্য কিছু ধারনা। আশা করছি টিউনটি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সম্পূর্ণ টিউনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। ততক্ষণ পর্যন্ত টেকটিউনস এর সঙ্গে থাকুন।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 115 টি টিউন ও 50 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 12 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস