গাঁধা নামক প্রাণীটি কি আসলেই গাঁধা, নাকি আমরা গাঁধা শব্দের ব্যবহার ভুল জায়গায় করছি

টিউন বিভাগ এডুটিউনস
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 4
২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা

আশাকরি সবাই ভালো আছেন। বরাবরের মতো আজ ও নিয়ে এসেছি অসম্ভব সুন্দর একটা টিউন নিয়ে। আশা করি আপনাদের সকলকে ভালো লাগবে টিউনটি।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি পনির বানানো হচ্ছে গাধার দুধ থেকে

জানা গেছে, সাইবেরিয়ার এক বিশেষ জাতের গাধার দুধ থেকে সেই পনির সৃষ্টি হয়। আর সেই পনির এর 1 Kg এর দাম ১১৩০ মার্কিন ডলার বা ৯৫৭৯০ টাকা প্রায়।

স্লোবোদান নামক নামক এক ব্যক্তি ও তার দলবল এই পনির বানাচ্ছেন ২০১২ সাল থেকে। সিমিক বলেন যে, তারা প্রায় ২০০ গাধা লালনপালন করছেন সাইবেরিয়ার জাসাভিকাতে। এই দুধ মায়ের দুধের মতোই উপকারী বলে দাবি জানান সিমিক। এই দুধে যেসব উপাদান রয়েছে তা হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিস প্রতিরোধে সক্ষম।

মানব শিশু জন্মের প্রথম দিন থেকেই খেতে পারবে এই দুধ। এমনকি এর সাথে পানিও মেশানোর প্রয়োজন হবে না। সিমিক এই দুধকে প্রকৃতির নিয়ামত বলে অভিহিত করেছেন।

যাঁদের গরুর দুধে গাঁ চুলকায় অর্থাৎ অ্যালার্জিক প্রভাব আছে, তাদের কাছে এই দুধ সব থেকে ভালো বিকল্প, বলে দিয়েছে জাতিসংঘ। উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন এই দুধে আরো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সিমক।

এই দুধে ক্যাসেইন নামক উপাদান বেশি থাকে না পনির বানাতে একটু অসুবিধা হয়। কিন্তু সিমিকের এক কর্মচারি আবিষ্কার করেন, এই গাধার দুধের সঙ্গে যদি ছাগলের দুধের নির্দিষ্ট পরিমান মেশানো যায় তবে পনির বানাতে সুবিধা হয়।

গাঁধা নামক প্রাণীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গাধা একটি গৃহপালিত প্রাণী, বর্তমানে অনেকে পোষ্য প্রাণী হিসেবে গাধা লালনপালন করছেন। এটিকে আমরা খুব অবহেলা করি। অবহেলা না করেলেও ঘোরার মতো অতটা যত্ন করি না।

গাধার বৈজ্ঞানিক নামঃ Equus asinus

গাঁঁধা শব্দের অর্থের ভুল ব্যবহার করছি আমরা। এর সঠিক ব্যবহার হলেও কারণ টা আমার জানা নেই। গাঁঁধা সাধারণত বোকা বা গর্দভ অর্থে ব্যবহার করছি। আমাদের সমাজে কেউ কোনো বোকামি করলেই আমরা তাকে গাধা বলে ফেলি। কিন্তু গাধার কাজ কি আসলেই গর্দভ এর মতো?

চলুন জেনে আসি গাধা কি আসলেই গাধা নাকি আমরাই ভুল ধারনায় আছি

আমাদের সমাজের অধিকাংশ লোকের ভুল ধারণা আছে গাধা একটা বোকা প্রাণী। কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানীর এই প্রাণীটিকে বুদ্ধিমান ও স্মার্ট প্রাণী বলেই মনে করেন। গাধার কয়েকটি বিশেষ গুন নিচে উল্লেখ করা হলো।

  1. গাধারা মানুষের কণ্ঠ বোঝতে পারে। তারা পুরনো মালিক ও সাথীকে ২৫ বছর পর পর্যন্ত চিনতে পারে এমন রেকর্ডও আছে গাধার।
  2. সামনে বড় বাধা থাকলে মালামাল বাহী গাধা আগেই নিজের পথ বদলে নেয়।
  3. গাধার আসল ইংরেজি নাম হচ্ছে Ass এবং she ass কিন্তু সেটা গালিতে পরিণত হওয়ায় কারনেই পরে গাধাকে dunkey বলে ডাকা শুরু হয়।
  4. গাধারা ভাবতে পারে, তাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা আছে। নিজের ও মালিকের নিরাপত্তা সবার আগে চিন্তা করে সে।
  5. ভেড়া ও ছাগল পাহারা দেবার জন্য একটি গাধাই যথেষ্ট। খুব মনোযোগ দিয়ে গাধা খেয়াল রাখে ভেড়ার পালের।
  6. শেয়াল, বাঘ ও নেকড়ে গাধাকে ভয় পায়। এদের কেউ কোন ভেড়ার পালে ঢুকে পাহারায় গাধাকে দেখতে পেলে, দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে বেশি নেকড়ে হলে সে অন্য কথা।
  7. এদের ঘ্রাণশক্তি ও শ্রবণ শক্তি দুর্দান্ত। দূরের বিপদজনক গন্ধ তারা আগেই বুঝেতে পারে এবং সামনে কিছুতেই যায় না। মাটিতে আঘাত করতে থাকে পা দিয়ে। এতে অনেক মনিব না বুঝে গাধাকে একগুঁয়ে মনে করে পেটায়।
  8. গাধা তার সাথীকে খুব ভালোবাসে। গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমায়, শরীর পরিস্কার করে দেয় সবসময়।
  9. গাধা সামাজিক প্রাণীর আওতায় পরে। কারণ গাধা একা থাকতে পারে না। কমপক্ষে একটি ছাগলকে বা শিশুকে সাথী হিসেবে পেলেও সে উৎফুল্ল থাকে।
  10. গাধা প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত  বেচে থাকতে পারে। একই বয়সের ঘোড়ার চেয়ে গাধা বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
  11. গাধার আদি বাসস্থল মরুভূমি। সেজন্য গরম আবহাওয়া বেশি পছন্দ করে। শরীরের চামড়ার পশম পানিরোধী নয়। তাই সে বৃষ্টিকে ভয় পায় এবং ঠান্ডায় কাঁপতে থাকে।
  12. ঘোরা ও গাধা সাধারণত একই ভাবে চলাচল করে। কিন্তু গাধা মরুভূমির প্রাণী হওয়ায়, এরা ঘোড়ার মতো দৌঁড়তে পারে না, এতে শক্তি বেশি নষ্ট হবে বলে।
  13. তারা কখনো চমকে উঠে না। জোরে আওয়াজ হলে আগে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ জোরে আওয়াজ হলে ঘোড়া ছুটতে শুরু করে।
  14. মরুভূমি তে ঘাস বেশি না থাকায় গাধা ঘাসের ৯৫% শরীরের কাজে লাগায়  অল্প পরিমাণ মল সৃষ্টি করে।
  15. যারা ঘোড়ায় চড়া শিখতে চান তাদের জন্য গাধাতে ভাল শুরু হতে পারে। কারণ গাধা কখনোই সওয়ারী কে ফেলে দেয় না।
  16. গাধার দুধই একমাত্র নন এলার্জিক দুধ। যেসব শিশুদের পেটে সমস্যা থাকে তাদের জন্য এর দুধই সবচেয়ে ভালো।
  17. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গাধা পাওয়ার জায়গার নাম হলো চিন। ব্রিটেনে গাধা আমদানিতে গাধার পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়।
  18. মিশরীয় সিল্ক রোড নির্মাণে গাধার অনেক ভূমিকা ছিল। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাধার পিঠে চড়েই পিরামিড তৈরির সরঞ্জাম আসতো। তাই মিশরীয়দের দেয়াল চিত্রে গাধার ছবি আছে। প্রাচীন সৈনিকদের অস্ত্র বহন করত গাধা।
  19. সংকর প্রাণী তৈরিতে গাধার জিন চমৎকারভাবে কাজ করে। পশ্চিমে ছেলে গাধাকে জ্যাক  বলা হয় ও  গাধিকে জেনি বলে। এর সাথে ঘোটকির  সংকর প্রাণীকে মিউল বলে। জেব্রার সংকর প্রাণীকে বলা হয়ে থাকে জংকি। গাধীর সাথে ঘোড়ার সংকর প্রাণীকে হিনী বলা হয়ে থাকে। হিনীর চেয়ে মিউল এর  শক্তি অনেক  বেশি হয়।
  20. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গাধা আছে চিনে। ব্রিটেনে গাধা আমদানিতে  গাধার পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়।

এবার বুঝলেন তো আমাদের গালির উপাদান গাঁধা কিন্তু আসলেই গাঁধা নয়।

টিউন টি ভালো লাগলে জোসস দিতে ভুলবেন না।

এরকম অসম্ভব সুন্দর টিউন পেতে চাইলে টিউমেন্ট করতে ভুলবেন। ভুল ত্রুটি হলে মাফ করবেন। এ পর্যন্ত সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। টিউন সম্পর্কে মন্তব্য থাকলে টিউমেন্ট  এ জানবেন।

Level 4

আমি মোঃ তানজিন প্রধান। ২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 55 টি টিউন ও 45 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 8 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো হারিয়ে যাই চিন্তার আসরে, কখনোবা ভালোবাসি শিখতে, কখনোবা ভালোবাসি শিখাতে, হয়তো চিন্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে ব্যাস্ততার ভীরে। তারপর ব্যাস্ততার ঘোর নিয়েই একদিন চলে যাব কবরে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস