ইনফ্রারেড ওয়েভ বা অবলোহিত বিকিরণ কি?

টিউন বিভাগ ইলেক্ট্রনিক্স
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 4
২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালোই আছেন। প্রতিদিনের মতো আজও আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি সুন্দর একটি টিউন। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের টিউন।

বর্তমানে বেতার বা তারবিহীন মাধ্যম মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। এই পদ্ধতিতে কেবল বা তার ছাড়াই বৈদ্যুতিক সংকেত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন বা বিকিরণের মাধ্যমে বায়ু মাধ্যমে সকল দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কোন প্রকার তার বা ক্যাবলের প্রয়োজন ছাড়াই ডাটা আদান-প্রদানের জন্য এক প্রকার মাধ্যম ব্যবহার করা হয় এ মাধ্যমকে ওয়ারলেস মিডিয়া বলে।

এই তারবিহীন মাধ্যম বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ইনফ্রারেড ওয়েভ।

ফ্রিকোয়েন্সী ব্যান্ড এর কার্যসীমা যদি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের ৩০০ গিগাহার্জ থেকে ৪৩০ টেরাহার্জ পর্যন্ত হয় তাহলে তাকে ইনফ্রারেড ওয়েভ বলে।

অন্যভাবে বললে এভাবে বলা যায় যে, যে সকল তড়িৎ চৌম্বক বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের তরঙ্গ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সীমা এক মাইক্রোমিটার থেকে এক মিলিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের বলা হয় ইনফ্রারেড ওয়েভ বা অবলোহিত বিকিরণ রশ্মি।

সাধারণত এই বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অপেক্ষা সামান্য বড় কিন্তু মাইক্রোওয়েভ থেকে সামান্য ছোট। খালি চোখে এই তরঙ্গ দৈর্ঘ দেখা যায না।

১৮০০ সালে ইনফ্রারেড বিকিরণ উইলিয়াম হার্শেল নামক একজন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন।

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেমন টিভি, সিডি প্লেয়ার, মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি যন্ত্রের রিমোট কন্ট্রোলে ইনফ্রারেড ওয়েভ বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইনফ্রারেড যোগাযোগ পদ্ধতিতে প্রান্তে একটি এলইডি বা লাইট এমিটিং ডায়োড (LED-Lite Emitting Diode) থাকে যা ইনফ্রারেড সংকেতকে ট্রান্সমিট করে অদৃশ্য আলোতে রুপান্তর করে। গ্রাহক প্রান্তে একটি ফটো ডায়োড থাকে যা প্রান্ত থেকে প্রেরণ করা অদৃশ্য আলো শনাক্ত করে রিসিভারের ইলেকট্রনিক সার্কিট এর সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

ইনফ্রারেড প্রযুক্তির ব্যবহার-

১.খেলনা সামগ্রী নিয়ন্ত্রণ করতে ইনফ্রারেড ওয়েব ব্যবহার কর হয়।

২.স্মার্ট হোম এর পরিবেশ যেমন দরজা, জানালা গ্যাসলাইট, ফ্রিজ, ওভেন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে ইনফ্রারেড ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

৩.কম্পিউটারের তারবিহীন কিবোর্ড, মাউস প্রিন্টার ইত্যাদির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে ইফ্রারেড ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

৪.গাড়ির দরজা জানালা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে ইনফ্রারেড ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

৫.রেডিও, টিভি, এয়ারকন্ডিশন ইত্যাদি রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম ইনফ্রারেড ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

৬.আর বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের স্মার্টফোনগুলোতে রিমোট কন্ট্রোল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ইনফ্রারেড ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।

ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সুবিধা-

  • তুলনামূলক ভাবে দামে সস্তা।
  • খুব কম বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়।
  • স্বল্প দূরত্ব প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করে।
  • সীমিত ব্যান্ড উইথ এ কাজ করে; ১১৫ kbps।

ইনফ্রারেড প্রযুক্তির অসুবিধা-

  • অধিক দূরত্বে ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারেনা।
  • আলোকরশ্মি, ধুলাবালি, বর্ষা ও কুয়াশা ডেটা ট্রান্সমিট এ প্রভাব ফেলতে পারে।
  • ট্রান্সমিটার ও রিসিভার সরলরেখা বরাবর কাজ করে। লাইন অফ সাইট ছাড়া বাঁকা পথে বা বাধা প্রাপ্ত হলে কাজ করেনা।

তো বন্ধুরা, এই ছিল আজকের চমৎকার টিউন। যদি আপনার ভালো লাগার কারণ এই টিউনটি হয়ে থাকে তবে একটি জোসস দিতে ভুলবেন না। আর টিউন সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে টিউমেন্ট করতে দ্বিধা করবেন না। এতক্ষন পর্যন্ত আমার টিউনটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Level 4

আমি মোঃ তানজিন প্রধান। ২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 55 টি টিউন ও 45 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 8 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো হারিয়ে যাই চিন্তার আসরে, কখনোবা ভালোবাসি শিখতে, কখনোবা ভালোবাসি শিখাতে, হয়তো চিন্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে ব্যাস্ততার ভীরে। তারপর ব্যাস্ততার ঘোর নিয়েই একদিন চলে যাব কবরে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস