এভাবে আর কত মায়ের কান্না দেখব?

টিউন বিভাগ খবর
প্রকাশিত

2010-04-03-19-32-46-028901800-bokhate

 

ঘরের উচ্ছল মেয়েটি নিশ্চল পড়ে আছে লাশঘরে। সেদিকেই অসহায় দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে আছেন ভাইটি। আর তাঁর কোলে মাথা রেখে নির্বাক পড়ে আছেন মা। বখাটের অত্যাচারে গত ০৩/০৪/২০১০ আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছে স্কুলছাত্রী ইলোরা

ছবি: সাইফুল ইসলাম

  • যদিও পুরোনু খবর তারপর টিউন করলাম স্বরন করিয়ে দেবার জন্য। এরখম শত শত মেয়ে জীবন দিচ্ছে, এর জন্য কে দায়ি? সরকার নাকি আইন শৃঙ্কলা বাহিনি নাকি আপনি আমি? আজ ইলোরা বখাটেদের কারনে জীবন দিয়েছে কাল আপনার আমার বোন বা মেয়ে এভাবে জীবন দেবে।

  • ‘আমার মেয়েকে কেন তালা মেরে রেখেছো। রাত হয়ে গেছে, ওকে জাগিয়ে দাও। ওকে মশায় খেয়ে ফেলবে, ও তো এখন পড়তে বসবে।’
    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের সামনের মেঝেতে আছড়ে পড়ে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন মা হালিমা নিজাম। তাঁর আদরের ছোট মেয়েটি আর পড়তে বসবে না, স্কুলে যাবে না। বখাটের উৎপাত সইতে না পেরে আত্মাহুতি দিয়েছে সে।
    রাজধানীর রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে কুলসুম ওরফে ইলোরা (১৪) গত ০৩/০৪/২০১০ শনিবার বিকেলে খিলগাঁওয়ের মধ্য নন্দীপাড়ার বাসায় বিষ পান করে। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় এক বখাটের অব্যাহত উৎপাত সইতে না পেরে ইলোরা আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বখাটে রেজাউল করিমকে 03/04/2010 রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
    এর আগে খিলগাঁওয়ে বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছিলেন চারুকলার ছাত্রী সিমি। গত ১৯ মার্চ পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ঘরে ঢুকে বড় বোনকে আটকে রেখে ছোট বোনকে ধর্ষণ করেছিল ১০ বখাটে। মিরপুরের টোলারবাগে কিশোরী ফাহিমাও আত্মহত্যা করেছিল বখাটেদের উৎপাত সইতে না পেরে।
    পারিবারিক সূত্র জানায়, নন্দীপাড়ার ৫ নম্বর সড়কের ৬৫ নম্বর বাসায় থাকেন মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষক (অডিটর) নিজামউদ্দিন মোল্লা। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ইলোরা সবার ছোট। ০৩/০৪/২০১০ তারিখে দুপুর সোয়া একটার দিকে স্কুল থেকে মায়ের সঙ্গে বাসায় ফেরে ইলোরা। বিকেলে সবার অজান্তে সে বিষাক্ত দ্রব্য পান করে মায়ের শয়নকক্ষে যায়। খারাপ লাগছে বলে জানালে মা তাকে কাছে ডেকে নেন। ইলোরার মুখে বিষের গন্ধ পেলে তিনি দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সঙ্গে যান ইলোরার স্বজনেরা। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    ইলোরার মা হালিমা নিজাম হাসপাতালে প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্থানীয় বখাটে রেজাউল স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ইলোরাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কয়েকবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দিনের পর দিন সে ইলোরাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। ইলোরা স্কুলভ্যানে আসা-যাওয়া করত। একপর্যায়ে ইলোরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর মা নিজেই ইলোরাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন।
    হালিমা নিজাম জানান, পুরো বিষয় রেজাউলের বাবা বাবর আলীকে জানানো হয়। আট-দশবার জানালেও তিনি আমলে নেননি। উল্টো রেজাউলের মা ও চাচি একদিন বাসায় এসে ইলোরাকে দোষারোপ করেন। তাঁরা নানাভাবে শাসিয়ে যান।
    গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার সময় রেজাউল ইলোরার পথ আটকায়। জানতে চায়, বাসায় কেন তার বিরুদ্ধে জানানো হয়েছে। ইলোরার পরিবার বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাসহ মহল্লাবাসীকে জানায়। সবাই বখাটে রেজাউলের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। ইলোরার মা জানান, তাঁরা জিডি করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
    ইলোরার বড় ভাই হাফিজ আল ফাহাদ জানান, মাস দেড়েক আগে তাঁদের এক ভাড়াটের মাধ্যমে রেজাউল একটি মুঠোফোন পাঠায় ইলোরার জন্য। মা ফোনটি নিয়ে নেন। এর কয়েক দিন পর বখাটে রেজাউল আরও একটি ফোন পাঠায়।
    জানা গেছে, রেজাউল পড়াশোনা করেনি। তার বয়স ১৯-২০ বছর হবে। তার নেতৃত্বে আট-দশজনের একটি বখাটে দল সারাক্ষণ এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে।
    ইলোরার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ০৩/০৪/২০১০ তারিখে রাতে যোগাযোগ করা হলে খিলগাঁও থানার অপারেশন কর্মকর্তা আসলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মৃত স্কুলছাত্রীর বাবা নিজামউদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রেজাউল করিমকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। বখাটে রেজাউল গা-ঢাকা দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে থানার তিনটি দল অভিযানে নেমেছে।
    ওই দিন সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইলোরার মা লাশঘরের সামনে বিলাপ করছেন। বলছিলেন, ‘ওকে লাশঘরে একা রেখে আমি যাব না। আমার ঘর শূন্য হয়ে গেল।’ মায়ের কান্নায় উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে।

এখান থেকে কপি করা হয়েছে 

এট

Level 0

আমি আমিন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 11 বছর 4 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 4 টি টিউন ও 78 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

Onek shundor post.. Shorkar kokhono nijer bertotha shikar korbe na, BNP hok ba AWAMI LEAGUE hok…

http://www.bdtechie.com

    টিক বলেছেন, আসলে সরকার এ জন্য দায়ি। ধন্যবাদ

বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি তাতে সরকারের উচিত খুব শীঘ্রই বাল্যবিবাহের মত বাল্যপ্রেমও নিষিদ্ধ করা। তাহলে আর বখাটে ছেলেরা অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েদের কে প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার সাহস পাবে না ।

    আসলে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনের কাজ নেই কাজ হচেছ চেয়ারে বসে সিগারেত টানা, বাংলাদেশের বাইরে দেখুন একটু চোখ খুলে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করছে , রাস্তায় রাস্তায় টহ্ল দিচেছ প্রতি ৫ মিনিট পর পর।ধন্যবাদ

    টিক বলেছেন ভাই

সত্যই দুঃখজনক ক্ষমতাবান খালাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে কি?

    আসলে দুঃখজনক ক্ষমতাবান খালাদের দৃষ্টি টাকার দিকে।

কি বলব বুঝতে পারছি না, শুধু কষ্ট লাগছে ।

আসলে আমাদের কিছু করার নেই, ধন্যবাদ।

Vai, tune korar age ektu vebe chinta tune koren, eta to ar somwhereblogin na j jekono khobor dia deben. eta techtune, so eita mathai rekhe technology bishoyok tune korben asa kori.
ei dhoroner postgulu somewhereblogin e korta paren.

    আচ্ছা তাহলে আপনি ওই দলেরি, বুঝতে আর বাকি রইল না।

    আমিন ভাই,
    আমার ধারনা এটা উইন্ডোজ শোয়েব এর ID না। এটা মনে হয় একটা fake account।

    manush ke khobor dite kono nirdhishto jagai lageye na…

ভাই, বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা এতই অবনতি হয়েছে যে, সাধারন মানুষ এই সরকারের চোখে মানুষ না। এই উত্ত্যক্ত এবং এক তরফা প্রেমের কারনে কয়েকটা ঘটনা ঘটে গেছে। যদি প্রথম থেকেই সরকার এইদিকে নজর দিত তাহলে পরের ঘটনাগুলো ঘটত না। কিন্তু সরকারের চোখে যুদ্ধ অপরাধ ছাড়া আর কোন সমস্যাই নজরে পড়ে না। আল্লাহই জানে এর পরে কোন মায়ের বুক খালি হয়।

    মনের কথ বলে ফেললেন, যুদ্ধ অপরাধের বিচার হবার আগে এইসব খুনিদের বিচার হয়া উচিত।

এই ধরণের খুনিদের বিচার হওয়া উচিৎ প্রকাশ্য গুলি হত্যা করা এবং দেশের মানুষকে টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো উচিৎ

    এটা কখন হবেনা, কারণ এরাই বিচারকে, নেতারই আত্বিয়।

পুলিশ যখন বেটাকে ধরে ফেলেছে তবে আর দেরি কেন? বিচার-ঠিচার বাদ দিয়ে ফেলে দিলেইতো হয়।

    কে করবে আমার মামা আছেনা।

ভাই এই ঘটনার পরও আরেকটা ঘটনা ঘটেছে যাহা ইহার চাইতে কোনো অংশে কম না.মাত্র আড়াই বত্সরের একটি মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে কিন্তু দুখের কথা হলো এতে সরকারে কোনো চিরুনি অভিযান দেখিনা.

kisu bolar nai… desher ja obostha.. sudhu aituku bolte chai.. Hitlar naki bole silo j [ ami sob ehudi k marbo na… kisu rekhe debo jateee poroborti projonmo bujhte pare what is ehudi ?? ] to amadr Bongobondhu ( jatir pita .. na kile abar jail hoite pare ) bakshal kore sob dol close kore disilen .. but Major Zia hoito moner ojante-e bohudolio gonotontro ane galen amader k ( new projonmo BD ) bujhanor jonno what is awamiligue…

r akta kotha .. k jeno bollo somewhare in blog-er kotha oikhane likhte.. unare boli ken vai jara technology-r manuush tara ki aisob somosha niya vabbe na.. amar kase ki mone hoise janen ?? 71-aj porjonto jaa-e amader rastro khomotai gase tara silo matha motha …. ai jonno-e desh ajk ai obostha.. amar mone hoi akhon-e somy .. amader desh k amader moto kore goriya lowar….. khaleda hasina nijami ara kokhono-e BD tader desh mone kore na ami onek proman dite parbo…. tanak u amin amon akta likhar jonno….

ব্যাপারটা খুবই কষ্টকর। 🙁 আসলেই সরকার কি করছে ?

# আমার মনে হয় মেয়েরা এবং ছেলেরা যদি ইসলামিক দৃষ্টি ভঙ্গীতে চলে তবে এ ধরনের ঘটনা ৯৫% করে আসবে।

# একজন ছেলে যতই বখাটে হোক না কেন, তার সামন দিয়ে একজন পর্দাশীল নরী যদি যায় তবে সহজে সেই বখাট ছেলে তাকে বাজে মন্তব্য করতে পারে না। এটি আমার বাস্তব অভিঙ্গতা।

# মেয়েদের কে কখনোই হঠাৎ করে আত্মাহুতির পথ বেছে নেওয়া যাবে না। এটি অতিব পাপের কাজ, যার ক্ষমা নেই। মৃত্যুই সকল সমাধান নয়…
তার আত্মাহুতির পথ বেছে নেওয়ার আগে এটুকু চিন্তা করা উচিৎ ছিল তার মা এবং ভাই তাকে যে পরিমান ভালবাসতো তার মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা কিরূপ হবে।

# বখাটে ছেলেদের বিচারের শাস্তি যেন এতটাই কঠিন হয় এবং যা দেখে ভবিষতে কোন ছেলে একজন মেয়ে কে উত্তপ্ত করার সুযোগ না পায়।

# বিদ্রোহী ভাইয়ের সাথে সহমত সরকারের উচিত খুব শীঘ্রই বাল্যবিবাহের মত বাল্যপ্রেমও নিষিদ্ধ করা।

    ভাই আপনার সাথে আমিও একমত.সর্বশেষ কথা হলো ইসলামিক আইনই একমাত্র সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারে.

    আবার মৌলবাদী হইয়া গেলাম নাতো.

    মৌলবাদী সংগা অনেক ক্কঠিন, একবার ইসলামিক টিভি তে জাকির নায়েক এর লেকচার শুনেছিলাম।

    ছোট ভাইয়ের সাথে আমিও একমত । ছোট ভাইয়ের মন্তব্য এর ফলে আমার জাকির ণায়েকের এক মন্তব্য মনে পড়ে গেল –
    দুন বোন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে , এক বোন খুবই সুন্দুরী কিন্তু পর্দাশীল আরেক বোন পর্দাশীল নয় । কাকে ছেলেরা Tease করবে অবশ্যই যে মেয়েটি পর্দাশীল নয় । মেয়েদের অবশ্যই পর্দাশীল হওয়া উচিত পাশাপাশি Guardianদের যন্তশীল হওয়া উচিত।
    বখাটে ছেলেদের বিচারের শাস্তি যেন এতটাই কঠিন হয় এবং যা দেখে ভবিষতে কোন ছেলে একজন মেয়ে কে উত্তপ্ত করার সুযোগ না পায়। আমার মতে সরকারের এই ব্যাপারে ইসলামিক কোন আইন প্রয়োগ করা উচিত।