গ্রেট মস্ক অব জেনি বিশ্বের বৃহত্তম মাটির মসজিদ

পশ্চিম আফ্রিকার একটি অনুন্নত কৃষিভিত্তিক দেশ মালি। খরা, মহামারি, অনাহার লেগেই আছে দেশটিতে। উল্লেখ করার মতো তেমন বিশেষ কিছু নেই এ দেশটিতে। তবে বিশেষ এক স্থাপনার কারণে দেশটি পুরো বিশ্বে পরিচিত। স্থাপনাটি হাজার বছরের পুরনো, কাদামাটির তৈরি একটি বিশাল আকৃতির মসজিদ। মালির অন্তর্বর্তী ছোট একটি গ্রাম জেনিতে এটি অবস্থিত। সকলের কাছে ‘গ্রেট মস্ক অব জেনি‘ নামেই এটি অধিক পরিচিত।

ভিদিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন 

মসজিদটি কবে, কখন এবং কীভাবে নির্মিত হয়েছিল সে সম্পর্ক ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ৮০০ – ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। জেনির ২৬তম শাসক কোনবোরোর হাতে এই মসজিদের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়।

১৮২৭ সাল পর্যন্ত এই মসজিদ সম্পর্কে কোনো প্রকার লিখিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। ফরাসি পর্যটক রেনে কেইলি ১৮২৭ সালে মালি ভ্রমণের সময় এই মসজিদটি আবিষ্কার করেন এবং এই মসজিদের বিস্তারিত বর্ণনা জার্নাল অব দ্য ভয়েজ টু টিম্বাকটু এন্ড জেনিতে উল্লেখ করেন। তিনিই প্রথম ইউরোপিয়ান যিনি মসজিদটি ধ্বংস হওয়ার পূর্বে নিজের চোখে দেখেছিলেন। তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন মসজিদের অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত কাদা মাটির প্রলেপ দেওয়ার প্রয়োজন হতো। তিনি ধারণা করেন, অনেক বছর অবহেলায় পড়ে থেকে মসজিদটির স্থায়ীত্ব কমে এসেছিল।

বর্তমানে মসজিদটির যে রূপ দেখা যায় তা মূলত এর তৃতীয় সংস্করণ। ১৯০৭ সালের দিকে এর কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, মালি যখন ফরাসি উপনিবেশের অধীনে ছিল তখন ফরাসিরা এই মসজিদ পুনরায় নির্মাণ করে। তবে এর পক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় রাজমিস্ত্রীরা সংগঠিত হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাহায্যে মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।

এর দেয়ালে এবং ছাদে অনেকগুলো ছিদ্র রাখা হয়েছে যেন গ্রীষ্মকালে যথেষ্ট আলো-বাতাস পাওয়া যায়। এর বাইরের অংশের ৩টি উঁচু মিনার মসজিদটিকে অসম্ভব সুন্দর ছন্দময় দৃশ্য উপহার দেয়

মসজিদটিকে ঘিরে জেনি গ্রামের সচেয়ে বড় উৎসব ‘ক্রেপিসেজ দি লা গ্র্যান্ড মস্ক’ পালন করা হয়। বার্ষিক এই অনুষ্ঠানের জন্যে গ্রামের মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে। গ্রামের সকলেই এতে আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করে। তখন রাজমিস্ত্রীর সংগঠন গ্রামের লোকদের একত্রিত করে নাইজার এবং বানি নদী থেকে মাটি আহরণ করা শুরু করেন। সাধারণ মানুষ গভীর আগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটি সংগ্রহের কাজে।

গ্রামের বাসিন্দারা তাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী মাটির মসজিদকে নিয়ে বেশ গর্ববোধ করে। উৎসবের সময়ে বাইরের কিছু পর্যটক সবসময় চেয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাইরের সংস্কৃতির প্রভাব খাটাতে। আবার অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী মসজিদটিকে কংক্রিটের মসজিদ করে দেয়ারও প্রস্তাব করেছে। কিন্তু জেনি সম্প্রদায়বাসী তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও এর ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী।

Level 0

আমি মার্স টেক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 2 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 35 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 5 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

মসজিদের আসল যে উদেশ্য ‘নামাজ’ তাতে গ্রামবাসী কেমন উপস্থিত হয় তা জানতে পারলে আরো ভাল হতো। ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।