সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ইতিহাস

টিউন বিভাগ অন্যান্য
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

এই পৃথিবীতে ত্রিশ হাজারের মতো আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার মধ্যে দেড়শোটির মতো রয়েছে জীবন্ত। আর অবশিষ্ট অধিকাংশই সুপ্ত ও লুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা সব জায়গাতেই ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়গিরি। তেমনি কয়েকটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে জেনে নিই।

) মাউন্ট এৎনা (ইতালি)

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন

বর্তমানে ইতালির সবচেয়ে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এই মাউন্ট এৎনা। ইতালির দক্ষিণপ্রান্তে এবং সিসিলি দ্বীপের পূর্ব প্রান্তে ক্যাটানিয়া শহরে এই আগ্নেয়গিরিটির অবস্থান। এর উচ্চতা প্রায় ১১ হাজার ফুট। এই আগ্নেয়গিরির মুখ চারটি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই আগ্নেয়গিরিটির বয়স প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর। ইতিহাসের পাতায় গত বেশ কয়েক দশক ধরে থেমে থেমে এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। ১৬৬০ সালের পর ১৯২৮ সালে বেশ বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাউন্ট এৎনা জেগে উঠে। তারপর ১৯৪৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে লাভা, ছাই, ধোঁয়া বেরিয়ে এসেছে প্রচুর পরিমাণে। ২০১৬ সালেও দুই দফা এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে মাউন্ট এৎনা ইতালির এক নামকরা ট্যুরিস্ট স্পট। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো মাউন্ট এৎনা আগ্নেয়গিরিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

) সাকুরাজিমা (জাপান)

জাপানে ১০০টিরও বেশি আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই জীবন্ত। তার মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য আগ্নেয়গিরি হলো এই সাকুরাজিমা। জাপানের দক্ষিণে চিসু প্রদেশে সাড়ে তিন হাজার ফুট উঁচু এই আগ্নেয়গিরির তিনটি মুখ রয়েছে। কিতাদাকে (উত্তর-চূড়া), নাকাদাকে (মধ্য চূড়া) ও মিনামিদাকে (দক্ষিণ চূড়া)। দক্ষিণ চূড়াটিই বর্তমানে বেশি সক্রিয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১, ১১৭ মিটার (৩, ৬৬৫ ফু) উঁচু কিতাদাকে হল সাকুরাজিমার সর্বোচ্চ চূড়া। প্রায় সময়েই এই আগ্নেয়গিরি জীবন্ত হয়ে ওঠে। ৫ হাজার বছর আগেও যে এই আগ্নেয়গিরি সক্রিয় ছিল এমন প্রমাণও তারা পেয়েছেন। ১৯১৪ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রচুর পরিমাণে যে লাভা বেরিয়ে আসে তা থেকে সৃষ্টি হয় এক নতুন দ্বীপের। ১৯৬০ সালে জাপান সরকার সাকুরাজিমার আগ্নেয়গিরি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষণাগার তৈরি করে। এই শতাব্দীতে ২০০৯ সাল থেকে কয়েক বছর পর পর জেগে উঠছে সাকুরাজিমা। ২০১৫ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১৬ এর জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আগ্নেয়িগিরির মুখ থেকে লাভা ধোঁয়া আর ছাই বেরিয়ে এসেছে, যা ছড়িয়ে পড়ে দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে।

) ভিয়ারিকা, চিলি

দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের দেশ চিলি। বর্তমানে ৯০টিরও বেশি সক্রিয় জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে দেশটিতে। তাদের মধ্যে অন্যতম ভিয়ারিকা আগ্নেয়গিরি। নয় হাজার ফুটেরও বেশি এর উচ্চতা। আগ্নেয়গিরির চূড়া পুরো বরফে ঢাকা। ১৯৬৪ ও ১৯৭১ সালে এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রচুর গরম লাভা বের হয়, যা হিমবাহের বরফ পর্যন্ত গলিয়ে ফেলে। এসময় এই এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং আশেপাশের শহর বেশ কিছুদিন ধোঁয়া ও ছাইয়ে ঢাকা পড়ে। এরপর নিয়মিত ২০ থেকে ২২ বছর ব্যবধানে জেগে উঠেছে ভিয়ারিকা। শেষবার মার্চ, ২০১৫ সালে লাভা উদগিরণ করেছে এই আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়া বায়ুমন্ডলে মিশতে থাকায় প্লেন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। ফলে আশেপাশের শহরগুলোতে রেড এলার্ট জারি করতে হয়।

) মাউন্ট পেলে (মার্টিনিক)

ক্যারিবিয়ান সাগরের মাঝে ছোট্ট একটা দ্বীপ মার্টিনিক। ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দ্বীপেই অবস্থিত মাউন্ট পেলে নামের এক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এর উচ্চতা ১, ৩৯৭ মিটার (৪৫৮৩ ফুট)। এটি একটি স্টারটো বা সংযুক্ত ধরনের আগ্নেয়গিরি। বর্তমানে এই আগ্নেয়গিরি জীবিত, লুপ্ত না ঘুমন্ত তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। কারণ এই আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এখনো ভূমিকম্পজনিত কম্পন অনুভূত হচ্ছে।

আবার অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, লাভা উদগিরণের মতো যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাগমা নেই মাউন্ট পেলের অভ্যন্তরে। ১৭৯২ সালে এবং ১৮৫১ সালে বেশ হালকা মাত্রার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল এই আগ্নেয়গিরি থেকে। তবে ১৯০২ সালের ৮ মে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণে জেগে উঠেছিল আগ্নেয়গিরিটি। বড় ধরনের অগ্ন্যৎপাত ঘটে এই আগ্নেয়গিরি থেকে। এখন এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে এক অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট। যদিও মাউন্ট পেলের খামখেয়ালিপনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তা এখনো পর্যন্ত রয়েই গিয়েছে।

) মাউন্ট নিরাগঙ্গো, গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো

কঙ্গোর পূর্ব দিকে গোমা শহরের কাছেই অবস্থিত এই  নিরাগঙ্গো আগ্নেয়িগিরি। এর পাশেই রয়েছে কিভু লেক এবং তার ২০ কি.মি. দূরে ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক। এখানেই আছে ১.২ কি.মি. ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় ও বৃহত্তম লাভা হ্রদ। এই লাভা হ্রদের গভীরতা প্রায় ১০, ৭০০ ফুট। জ্বালামুখ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায় এই আগ্নেয়গিরির লাভা।

গত একশো বছরে ৪০ বার সক্রিয় হয়ে লাভা ছড়িয়ে দিয়েছে এই আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরি থেকে শেষবার লাভা বের হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর ২০১৩ ও ২০১৪ সালে লাভা না বের হলেও ধোঁয়া আর ছাই এর জ্বালামুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সতর্ক রয়েছেন বিজ্ঞানীরা, সতর্ক স্থানীয় প্রশাসনও। কারণ আশেপাশে মানুষের বাস না হলেও ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল ফরেস্টে প্রচুর শিম্পাঞ্জি রয়েছে। লাভার আক্রমণে তাদের জীবনহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আগ্নেয়গিরিটির কিছু দূরেই রয়েছে নিহিয়াঙ্গু নামে আরো একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।

Level 0

আমি মার্স টেক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 2 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 35 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 5 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস